সার্চ ইঞ্জিন, ই-মেইল, ফাইনান্স, খবর, খেলাধুলা, ফ্লিকার সহ ইয়াহু হল এক বিশাল “কোর ইন্টারনেট অ্যাক্সেস”। ভেরাইজন সেই ইয়াহু কোম্পানিকে ৪.৮ মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করে কিনে নেয়। ইন্টারনেটের অগ্রদূত খ্যাত এওএল (একেএ আমেরিকা অনলাইন) কে ৪.৪ বিলিয়ন দিয়ে কিনে নিয়েছিল। কন্টেন্ট সাইট হাফিংটন পোস্ট ও টেকক্রাঞ্চসহ যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল তার প্রযুক্তি বিষয়ক বিজ্ঞাপন অর্জনে।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছুর মত পরিবর্তন আসছে ইন্টারনেটের জগতেও। ৯০ শতকের দিকে আমরা যে সকল বড় ব্যান্ড থেকে ইন্টারনেট পেতাম তাদের অবস্থা এমন হয়ে যাচ্ছে কেন তা আমাদের ভাবিয়ে তুলে। আজ সেরকম কিছু ব্যান্ডের তথ্য প্রকাশ করব যেন নতুন প্রজন্ম পুরনো প্রযুক্তিগুলোর সম্পর্কে ধারনা লাভ করতে পারে।
কম্পিউসার্ভঃ
কম্পিউসার্ভ ১৯৭৯ সালে একটি ডায়াল-আপ অনলাইন তথ্য সেবা হিসেবে ভোক্তাদের জন্য চালু করা হয় এবং তার জনপ্রিয়তা ১৯৮০ ও ১৯৯০ সালে আকাশচুম্বী ছিল। এটি আদর্শ অনলাইন পোর্টাল ছিল যা খবর, চ্যাট, ফাইল শেয়ারিং এর সঙ্গে বেশ কয়েক প্রজন্মের জন্য ব্যবহারকারীদের অনলাইন পোর্টালের অভিজ্ঞতা দিয়েছে।এইচ এন্ড আর ব্লক ১৯৮০ সালে কম্পিউসার্ভ ক্রয় করে এবং ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ডকমের কাছে বিক্রি করে দেয়।
প্রোডিজিঃ
কম্পিউসার্ভের ক্ষুদ্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল প্রোডিজি। ১৯৯০ সালে সিয়ার্স এবং আইবিএম এর অংশীদারিত্ব দ্বারা “হোম কম্পিউটার তথ্য সেবা” প্রদানকারী প্রোডিজির সূচনা হয়। সে সময়ে প্রোডিজি ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ, মূলত তার গ্রাফিক্স এবং বিজ্ঞাপন সমর্থনযোগ্যতার কারণে। এটি ৯০ এর দিকে অর্থ এবং তার ব্যবহারকারীদের হারায় এবং ১৯৯৩ সালে একে পুনরায় বুট করা হয়। ক্লাসিক প্রোডিজিকে ১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শাট ডাউন দেওা হয়। “ওইয়াইটুকে সমস্যা” এবং আটলান্টিকে দীর্ঘ পতন জনিত সমস্যার কারণে একে শাট ডাউন দেওয়া হয়। কোম্পানিটি ইন্টারনেট এবং এসবিসি কমিউনিকেশন প্রদানকারী হিসাবে নিজেকে পুনরায় গঠন করে আর এখন এটিএন্ডটি নামেই সর্বত্র পরিচিত।
অল্টাভিস্টাঃ
একটি ডেমো প্রকল্পের অধিনে অল্টাভিস্টাকে ডিজিটাল একুইপমেন্ট কর্পোরেশন দ্বারা ১৯৯৫ সালে চালু করা হয়। অল্টাভিস্টা মূলত গুগলের ইন্ডেক্সের পূর্বসূরি ছিল। অল্টাভিস্টা কয়েকবার হাত বদল হয়। কমপ্যাক কম্পিউটার ১৯৯৮ সালে একে কিনে নেয় (৩.৩ মিলিয়ন), সিএমজিআই ১৯৯৯ সালে ২.৩ বিলিয়ন দিয়ে আবার একে কিনে নেয়। ২০০৩ সালে বিজ্ঞাপন কোম্পানি ওভারচার সার্বিস একে ১৪০ মিলিয়নে কিনে এবং একই বছর ইয়াহু কর্তৃক এটি হাত বদল হয়। ২০১৩ সালে ইয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে অল্টাভিস্টাকে শাট ডাউন দিয়ে দেয়।
জিওসিটিসঃ
এটি মূলত ফেসবুকের মত ছিল। ফেসবুকের মতো এতেও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করা যেত এবং ব্যক্তিগত ওয়েব পৃষ্ঠা তৈরী করতে পারা যেত। ৯০ এর মাঝামাঝি সময়ে এটি প্রবর্তন করা হয় এবং ইয়াহু ৩.৫ মিলিয়নের অধিক অর্থ ব্যয়ে ১৯৯৯ সালে জিওসিটিস কিনে নেয় এবং একে ইয়াহু হিসেবে রান করা হত। অবশেষে ২০০৯ সালে একে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আস্ক জীভসঃ
আজকের সিরির দূরবর্তী প্রতিধ্বনি ছিল আস্ক জীভস। যা আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিত। ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু হয় আস্ক জীভসের। গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের সাথে জীভস সম্পৃক্ত ছিল না। আইএসি (যাদের ব্যবসা জড়িত ছিল ওকেকিউপিড, টিন্ডার, দ্য ডেইলি বিস্ট, কলেজহিউমর এবং ভিমেও এর সাথে) কর্তৃক ২০০৫ সালে ক্রয় করা হয়। এটি অনেকবার পুনরায় চালু এবং পরিত্যাগের মাধ্যমে অবশেষে আস্ক.কম -এ আবির্ভূত হয়।
অ্যাঞ্জেলফায়ারঃ
এই ওয়েবসাইটের হোস্ট এখনো আছে যার শুরুটা হয় ১৯৯৬ সালে। অন্য আরেকটি ডট কম স্টার্ট আপ হুহোয়ের দ্বারা ক্রীত এবং লায়কোস দ্বারা ১৯৯৮ সালে কেনা হয়েছিল। সে সময়ে সি এন এন এর বিবৃতি অনুযায়ী লায়কোস “বিশ্বের চতুর্থ সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব সাইট” ছিল যা আমেরিকা অনলাইন, ইয়াহু এবং মাইক্রোসফট এর পরের স্থান দখল করে ছিল। লায়কোস দ্বারা অনেকবার ট্রেডিং হওয়ার পর বর্তমানে ভারতীয় ডিজিটাল মিডিয়া কোম্পানি ইব্র্যান্টের সঙ্গে যুক্ত।
নেটস্কেপঃ
এওএল ১৯৯৮ সালে ৪.২ বিলিয়ন মূল্য দিয়ে নেটস্কেপ কিনে নেয়। যদিও তারা ভেবেছিল একে কিনতে হয়তো ১০ বিলিয়ন লাগতে পারে। ফায়ারফক্স লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য অর্জনের পর এওএল নেটস্কেপের জনপ্রিয়তা পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা তৈরি করে কিন্তু অবশেষে ২০০৮ সালে এটি এওএল এর সমথর্ন হারায়।
আইসিকিউঃ
ইসরাইলি কোম্পানি মিরাবিলিস দ্বারা ১৯৯৬ সালে চালু হয়। “আই সি ইউ” চ্যাট সার্ভিস এআইএম এবং ইয়াহু মেসেঞ্জারের বিকল্প ছিল। এওএল ২৮৭ মিলিয়ন খরচ করে ১৯৯৮ সালে মিরাবিলিস থেকে কেনে নেয় এবং ১৮৮ মিলিয়ন দিয়ে ২০১০ সালে আইসিকিউ বিক্রি করে দেয় রাশিয়ান বিনিয়োগ ফার্ম ডিজিটাল স্কাই টেকনোলজিসকে।
১৯৯০ সালের কিছু ব্যান্ড এখনো চালু আছে। যেমন ইবে, ম্যাচ.কম, আমাজন.কম, ওয়েবএমডি।

Comments
Post a Comment